ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার পর সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর অন্তত ৬০টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে। ভোট অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, আর ফল ঘোষণার পর দ্রুত সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে এই লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের ব্যবহারের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী ৫০টির বেশি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই আগের মন্ত্রিসভার সদস্যরা ব্যবহার করতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যবহৃত গাড়িগুলো ফেরত এলে সেগুলোও এ তালিকায় যুক্ত হবে। তবে ঠিক কতসংখ্যক গাড়ি চূড়ান্তভাবে প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে, শপথ অনুষ্ঠানের দিন এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। শপথের দিন সকালে গাড়িগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সেগুলো নতুন মন্ত্রীদের বাসভবনে পাঠানো হবে, যাতে তারা বঙ্গভবনে গিয়ে শপথ নিতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর সাধারণত ৬০ থেকে ৭০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। এবারও একই সংখ্যার গাড়ি প্রস্তুতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৬০টি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। অধিকাংশ গাড়ি ক্যামরি ও ল্যান্সার ব্র্যান্ডের। প্রস্তুত গাড়িগুলোতে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার মনোগ্রাম ও পতাকা লাগানোর স্ট্যান্ড সংযুক্ত রয়েছে। যেসব গাড়ি পূর্ণমন্ত্রীদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, সেগুলোতে পতাকা সংযুক্ত করে প্রতিমন্ত্রী-সংবলিত স্টিকার সরিয়ে ফেলা হবে। প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত গাড়িতে অতিরিক্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। প্রতিটি গাড়ির জন্য চালকও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মরত।
সাধারণত মন্ত্রিসভার আকার অনুযায়ী পরিবহন সহায়তা নির্ধারণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর শুরু হবে নতুন জনপ্রতিনিধিদের শপথ এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনের পর কত দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
