রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনাচালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলাম (৩৫)–কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ীর সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)-এ ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত নুরে আলম শরীয়তপুর জেলার শফিপুর সদরের মোয়াল্লেম সরদারের ছেলে। তিনি রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার একটি তিন বছরের শিশুসন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, চাঁদা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকার কয়েকজন লেগুনাচালক নুরে আলমকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের খালাতো ভাই ওমর ফারুক অভিযোগ করে বলেন, ‘হৃদয় নামে এক লেগুনাচালক রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরে আলমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার ছোট একটি সন্তান আছে-এখন তাকে কীভাবে বুঝ দেব? জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সম্প্রতি নুরে আলমের সঙ্গে আরেক লেগুনাচালকের ঝগড়া হয়েছিল। সেই শত্রুতার জেরেই তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’