নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ওসি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে হাট ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবদলের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রাকিবুর রহমান রাজা। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

জানা গেছে, এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধুনা হাটের ইজারা নিতে টেন্ডার জমা দেন ওবায়দুল ইসলাম তপু ও রাকিবুর রহমান রাজা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাটবাজার ইজারা-সংক্রান্ত আলোচনা সভা হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধুনা বাজারের ইজারা পান ওবায়দুল। ইজারা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রাকিবুর। সভা শেষে গুরুদাসপুর থানার ওসি এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাসহ সবাই ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হচ্ছিলেন। সেই সময় ওসিসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে ওবায়দুলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রাকিবুর।

এ বিষয়ে ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘হাটের ইজারা না পেয়ে ইউএনও অফিসের সামনে সবার উপস্থিতিতে আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে রাকিবুর। আমাকে গালিগালাজ করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করব।’

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ওবায়দুলের কাছে আমার এক বছর আগের পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকাই আমি চেয়েছি। পুলিশ প্রশাসন ও এত লোকের সামনে চাঁদা কেন চাইতে যাব?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে রাকিবুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। তবে তাঁর দাবি, চাঁদা বা টাকা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি। রাকিবুর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর পরও ওবায়দুল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।