পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনো সংলাপ বা আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোশাররফ জায়দি, যিনি বিদেশী মিডিয়ার জন্য মুখপাত্র, তিনি ঘোষণা করেছেন, “কোনো আলোচনা হবে না। কোনো সংলাপ নেই। কোনো নেগোশিয়েশন নেই। আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হতে হবে।”

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথাগুলো বলেছেন। পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে, যা আফগান তালেবান সরকারের সমর্থন পাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

গুরুত্বপূর্ণ যে, গত কয়েকদিনে দুই দেশের সীমান্তে (ডুরান্ড লাইন) সংঘর্ষ তীব্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার, পাক্তিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। আফগান তালেবানও পাল্টা হামলা করেছে, যার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের বান্নু, মিরানশাহ, স্পিনওয়ামসহ সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ও গোলাগুলি ঘটেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এটিকে “open war” বলে ঘোষণা করেছেন।

আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ শুক্রবার বলেছেন, তারা সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা হবে না।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরান, চীন, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং আইসিআরসি যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের “আত্মরক্ষার অধিকার” সমর্থন করেছে। সৌদি আরব ও কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত। সীমান্তে স্থানীয় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র : আল জাজিরা