জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক ও গাড়ি চালকরা। ডিজেল ও পেট্রোল না পাওয়ায় কৃষিকাজ, পরিবহনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানানো হলেও বাস্তবে পাম্পগুলোতে তেল না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সংঘাতকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন জ্বালানি তেল পাম্পে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে কৃষকেরা সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর চালাতে পারছেন না। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ এবং আলু হিমাগারে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে সরেজমিনে জেলার দুটি তেল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, পাম্পের সামনে “তেল নেই, বিক্রি বন্ধ” লেখা নোটিশ টানানো রয়েছে। তেল না পেয়ে অনেক চালক দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন হাট-বাজারে পেট্রোল ১৭০–১৮০ টাকা এবং ডিজেল ১১০–১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “কিছুদিন আগে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য প্রতি বস্তা পরিবহন ভাড়া ছিল ৪০–৪৫ টাকা। এখন তেলের দাম বেশি হওয়ায় সেই ভাড়া বেড়ে ৫০–৬০ টাকা করা হয়েছে। আলুর দাম কম, তার ওপর ভাড়া বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।”
মোটরসাইকেল চালক রিপন জানান, “পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু খোলা বাজারে বেশি দামে তেল ঠিকই মিলছে। প্রয়োজনের কারণে ১৮০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল কিনতে হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে—পাম্পে তেল না থাকলে বাইরে তেল আসে কোথা থেকে?”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আলু বহনকারী ট্রাক্টরের চালক রবিউল বলেন, “আগে প্রতি বস্তা ৩৫–৪০ টাকা ভাড়া নিতাম। এখন বেশি দামে তেল কিনতে হওয়ায় ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে। সকালে এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আজ ডিজেল কিনতে হয়েছে ১২০ টাকা লিটার।”

অনেক কৃষক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেল সংকটের কারণে কেউ বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে পেট্রোল ও ডিজেলের সংকটে পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়েছে। বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় চালকেরা জানান, তেল পাম্প বন্ধ থাকায় তাদের দৈনিক আয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় তেলের খোঁজেই কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।