
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের ১৫তম দিনে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। গতকাল এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি ড্রোন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে।’ নিরাপত্তা বাহিনীর অপর একটি সূত্রও কূটনৈতিক মিশনে এ হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরাকের রাজধানীতে হামলায় ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে এপি জানিয়েছে, দূতাবাসের ভেতরে থাকা একটি হেলিকপ্টার অবতরণস্থলে (হেলিপ্যাড) ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বাগদাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনের ভেতরে অবস্থিত বিশাল এই দূতাবাস প্রাঙ্গণটি এর আগেও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এ হামলার বিষয়ে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আগুনের ফুলকি ছড়িয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি দাবি করেছেন, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান কয়েক দফায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছিল। অ্যাডমিরাল তাংসিরি নির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়। তার দাবি অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর নিশানায় ছিল অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান এবং বিশাল জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র। যদিও এই হামলার দাবির বিষয়ে এখনো পেন্টাগন বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
