
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘিরে টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পবিত্র মসজিদুল আকসা। এরই মধ্যে পবিত্র লাইলাতুল কদরেও ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী পবিত্র এ মসজিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবছর রমজান মাসে বিশেষত ২৭তম রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদরে এ মসজিদে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি নামাজ ও ইতিকাফ করে থাকেন। কিন্তু এবছর মসজিদ ও এর সুবিস্তৃতি প্রাঙ্গণ জুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা।
মসজিদের অলিগলিতে অবস্থান করছে ইসরায়েলি টহলদার বাহিনী। আর মুসল্লিরা মসজিদের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়ে নামাজ আদায় করেন।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী জেরুজালেমের পুরাতন শহরকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করেছে এবং এর আশাপাশে শত শত সৈন্য মোতায়েন করেছে। ফলে জেরুজালেমবাসী বাব আল-সাহিরা, বাব আল-আমুদ এলাকায় এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করেছেন।
কারণ ইসরায়েলি বাহিনীর অবরোধের কারণে জেরুজালেমের পুরনো শহর ও আল-আকসা মসজিদ বন্ধ ছিল।
এদিকে রমজান মাসের শেষ দশকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও সেখানে নামাজ পড়া বন্ধের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লিগ। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘আরব লিগ এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং পবিত্র আল-আকসা মসজিদ/হারাম আল-শরিফের বিদ্যমান আইনি ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে, যা বিশ্বব্যাপী দুই বিলিয়ন মুসলমানের অনুভূতির প্রতি অভূতপূর্ব উস্কানি এবং ধর্মীয় উপাসনার স্বাধীনতা ও উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশাধিকারের অবমূল্যায়ন।’
আরব লিগ জানিয়েছে, ‘দখলদার ইসরায়েলের ১৯৬৭ সালে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।
এর মধ্যে রয়েছে অধিকৃত জেরুজালেম শহর এবং এর ইসলামিক ও খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থানগুলো।’
তা ছাড়া আরব লিগ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন একটি দৃঢ় আন্তর্জাতিক অবস্থান গ্রহণ করে যা দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের আইনি লঙ্ঘন ও অনুশীলন বন্ধ করতে, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকারের উপর আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিতে এবং উপাসনার স্বাধীনতাকে সম্মান করতে বাধ্য করে।
