
অভিনেতা, পরিচালক কিংবা লেখক—সব ক্ষেত্রেই নিজের কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন গাজী রাকায়েত। মাত্র স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনা করেই পেয়েছেন ২৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কিন্তু গুণী এই অভিনেতা একসময় হয়ে পড়েছিলেন ধর্মবিরাগী। প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে। অথচ সেই গাজী রাকায়েতই এখন আমূল বদলে গেছেন।
কীভাবে ঘটল সেই পরিবর্তন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে সে কথাই বলেছেন তিনি। পার্সপেক্টিভ পডকাস্ট উইথ ইয়াহিয়া আমিনকে শোনান কীভাবে নিজের ধর্ম বিশ্বাসকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। গাজী রাকায়েতের ভাষায়, ‘আমি কোরআনের সায়েন্টিফিক ‘ভুল’ ধরতে গিয়ে এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি টিচার হতে চেয়েছিলাম। বুয়েটে আমার অনার্স-মাস্টার্সে আমার ভালো মার্কস ছিল। কিন্তু আমি ছিটকে পড়ে যাই।
গাজী রাকায়েত বলেন, ‘আমার একটি ক্ষোভ জন্মে সৃষ্টিকর্তার ওপর, ধর্মের ওপর। সেই ক্ষোভ থেকে আমি জায়নামাজ ফেলে দিই। এটা হয়েছিল একটা মৃত্যু-যন্ত্রণা থেকে। ডেথ থটস বা চিন্তা থেকে। আমার একটা ভাগ্নে মারা গিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ তুমি আমাকে সৃষ্টি করছো। আমি কেন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যাব? আমি তোমাকে বলেছি সৃষ্টি করতে?’
সে সময়ের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার আইনস্টাইনের বই ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’ পড়া হয়েছে। স্টিফেন হকিং পড়ে আমি একজন এথিস্ট হয়ে গেলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম। আমার এনভায়রনমেন্ট মুসলিম। আমার দাদী নামাজ পড়ে, আমার নানা নামাজ পড়ে—তারপরও আমি ইসলাম পালন করি না। মুসলমান হয়ে! কী অধিকার আমার? কিন্তু আমি তো কিছুই জানি না। আমি চাইলে তো তোমাকে আল্লাহকে দেখাতে পারব না যে আল্লাহ আছেন। এই কারণে আল্লাহ নেই—এটা কীভাবে বলি? তুমি কোন জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বলো আল্লাহ নেই? কত জ্ঞানী তুমি?’
বিশিষ্ট এই পরিচালক বলেন, ‘তুমি যতই পণ্ডিত হও, তুমি ৯৯ পর্যন্ত যেতে পারবা, কিন্তু ১০০ হতে পারবা না। বিশ্বাস করুন, এই ‘এক’ হচ্ছে আল্লাহ। এই ‘এক’ আমাকে ১০০ দেবে। যেদিন থেকে এই ‘এক’কে আমি স্বীকার করেছি, সেদিন থেকে আল্লাহ সুবহানা ওয়াতায়ালা আমাকে সব দিয়ে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য ইসলাম এসেছে, শুধু মুসলমানদের জন্য নয়। আমাদের কোরআনে যে ২৮টি আলফাবেট আছে, প্রত্যেকটির একটি রিপ্লেসিং নাম্বার আছে, যেটাকে প্রফেসি নাম্বার বলে। যদি কোরআনের মতো একটি বই আনার জন্য মানুষ ও জিন একযোগে চেষ্টা করে, তবুও তারা এর মতো বই আনতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন,‘ আল্লাহ বলেন—তুই কত বড় ম্যাথমেটিশিয়ান, তুই আমার ভুল ধরবি? ১৫ দিন নিজে মাতব্বরি করে নিজে বানাতে চেয়েছিলাম। ১৫তম দিনে আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। এটা মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না।’
আল্লাহর প্রশংসা করে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘সূর্যের কক্ষপথ আছে কিনা, সেটা মাত্র আবিষ্কার হয়েছে হাবল টেলিস্কোপ আবিষ্কারের পর। তাহলে ১৪০০ বছর আগে কোরআনে কীভাবে বলা হয়েছে—আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি-দিন ও সূর্য-চন্দ্রকে, যা প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।’
আল্লাহ একটি জায়গায় বলেছেন, ‘পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগত জীবনে তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে, তা ঘটার আগেই লেখা থাকে। যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য বিমর্ষ না হও এবং যা পেয়েছ তার জন্য উল্লসিত না হও। আল্লাহ উদ্ধত অহংকারীকে ভালোবাসেন না।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো বই আছে, যে বই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে নম্বর বা অক্ষরগুলো এদিক-ওদিক করার কোনো সম্ভাবনা নেই? এটা কোনো মানুষের কাজ না। আমি চ্যালেঞ্জ করছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ম্যাথমেটিশিয়ানদের—ইউ কাম টু মি। আমি তোমাদের সঙ্গে ম্যাথমেটিক্যালি বসতে চাই। কীভাবে একটি কোরআন এত সুন্দরভাবে ম্যাথমেটিক্যালি তৈরি করা সম্ভব—আমি সেই চ্যালেঞ্জ দিলাম।’
