আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার জবাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক বিশ্বস্ত সূত্রের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। 

স্থানীয় সংবাদ কভারেজ

এর আগে গেল বুধবার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধ বিরতির জন্য ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। 

তাসনিম নিউজ এজেন্সি–কে দেওয়া তথ্যে ওই সূত্র জানায়, ইরান তার জবাবে স্পষ্ট করেছে— প্রতিপক্ষের আগ্রাসী হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আর যুদ্ধ না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট ও কার্যকর শর্ত নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

এছাড়া, যুদ্ধের অবসান শুধু একটি ফ্রন্টে নয়, বরং এই সংঘাতে অংশ নেওয়া অঞ্চলজুড়ে সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই কার্যকর করতে হবে বলেও উল্লেখ করেছে তেহরান।

সূত্রটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব একটি স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার এবং এটি বহাল থাকবে। একইসঙ্গে এটি অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবেও বিবেচিত হবে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব শর্ত জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় উত্থাপিত দাবির বাইরে— যা ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসনের কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এদিকে, সূত্রটি দাবি করেছে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ইরান তৃতীয় ধোঁকাবাজি হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে— বিশ্বকে শান্তির বার্তা দেওয়ার ভান করা, বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়া।

সূত্রটি আরও জানায়, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল নিয়ে ইরানের কিছু সংশয় থাকলেও, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে তাদের পূর্ণ সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, ওই সূত্রের দাবি— ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এবং চলমান সংঘাতেও আলোচনার মধ্যেই যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবারও একই কৌশলে নতুন আগ্রাসনের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।