মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক। এই সেক্টরের সাব- সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নওয়াজিশ উদ্দিনের অধীনে তিনি যুদ্ধ করেন। সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের অধীনে ফুলবাড়ি- ভুরুঙ্গামারী – উলিপুর এলাকায় যুদ্ধ করার জন্য আজিজুল হক কোম্পানি কমান্ডার নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি স্বাধীনতার পর ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৭২ সালের পর থেকে সব সরকারের আমলেই প্রতিটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত হলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। এবার এই বীর প্রতীক জেলা প্রশাসন থেকে কোনও আমন্ত্রণপত্র পাননি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র না পেয়ে লজ্জা ও অপমানবোধের কথা জানিয়েছেন এই বীর যোদ্ধা। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে তিনি তার কষ্টের কথা প্রকাশ করেন। আমন্ত্রনপত্র না পাওয়ায় তিনি আক্ষেপ করে বলেন,  ‘আমার অপরাধটা কী? মুক্তিযুদ্ধ করাটা কি অপরাধ ? স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করা অপরাধ ?’

এমনি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। এই দিবসটি আমার কাছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ। ৭২ সাল থেকে প্রশাসন আমাকে আমন্ত্রিত করে আসছেন। এই প্রথম জেলা প্রশাসন আমাকে আমন্ত্রণ করেনি।

এই বিষয়ে কবি ও সাহিত্যিক রিয়াজুল হক সরকার বলেন, জেলায় তিনিই একমাত্র জীবিত বীর প্রতীক। ৭২ সাল থেকে প্রশাসন তাকে আমন্ত্রণ করে আসছিলো তবে এবার তাকে আমন্ত্রণ না করাটা উচতি হয়নি।
লালমনিরহাট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক সুফী মোহাম্মদ জানান, স্বাধীনতার ৫৬ বছরের ইতিহাসে লালমনিরহাটে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। জেলার একমাত্র বীর প্রতীক জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমন্ত্রিত হননি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
লালমনিরহাট সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি জানান, ৭২ সাল থেকে প্রশাসন তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে আসলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পূর্বের প্রশাসন তাকে প্রতিবছর আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। এবার দায়সারা কাজ করেছে জেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমেই দাওয়াত দিয়েছি। তারা দায়িত্বটা খুশি মনে নিয়েছেন। তারা কাকে কাকে দাওয়াত দিবেন এটা আপনাদের বিষয়। তারা (মুক্তিযোদ্ধারা) কাকে কাকে দাওয়াত দিয়েছেন, এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন বলেও মন্তব্য এই জেলা প্রশাসকের।