
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এক বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় ইরাকের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেই। পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই সংকটে ইরাকের ‘সাহসী এবং সুষ্পষ্ট’ অবস্থানের জন্য তিনি বাগদাদকে ধন্যবাদ জানান।
সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি মুজতবা খামেনেইর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং ‘নিউজ ১৮’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেই তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পশ্চিমা শক্তির আগ্রাসন রুখতে ইরাকের এই দৃঢ় অবস্থান মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ।
মুজতবা খামেনেই তার বার্তায় ইরাকি সরকার এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় চলমান এই অসম যুদ্ধে ইরাক যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। ন্যায়ের পক্ষে এবং জুলুমের বিরুদ্ধে তাদের এই অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।”
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এই সময়ে ইরাকের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং খোদ সরকারের পক্ষ থেকে ইরান-পন্থী অবস্থান ও পশ্চিমা হস্তক্ষেপের বিরোধিতাকে তেহরান বড় ধরনের নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পিতা আলী খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে মুজতবা খামেনেইর এই বার্তা কেবল একটি ধন্যবাদ পত্র নয়, বরং এটি এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বলয় (Axis of Resistance) আরও শক্তিশালী করার একটি ইঙ্গিত। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে একঘরে করার চেষ্টা করছে, তখন প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে এই সংহতি প্রদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরাকের পক্ষ থেকে এই বার্তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তার ফলে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
