
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনকে ক্রুসেড বা ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম দুর্ধর্ষ গেরিলা হিসেবে পরিচিত চেচেন বাহিনী। চলমান যুদ্ধে ইরানের পক্ষে লড়াইয়ের ঘোষণাও এসেছে সশস্ত্র বাহিনীটির পক্ষ থেকে। যাকে সরাসরি ‘জিহাদ’ আখ্যা দেয়া হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল হামলা শুরু করলে, রাশিয়ার চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের যোদ্ধারা যুদ্ধে যোগ দেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দাজ্জাল অভিহিত করে তাদের সমস্ত আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন এই গেরিলা কমান্ডার।
অন্যদিকে, কেবল সামরিক সহায়তাই নয়, এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পুরো মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চেচেন প্রধান রমজান কাদিরভ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসছে তেহরান। এদিকে ইরানে আগ্রাসন চালালে আগ্রাসনকারীর পা কেটে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র লেফটেনেন্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাকারি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এমন হুঁশিয়ারি বাক্য উচ্চারণ করেন।
সেনাবাহিনীর এ মুখপাত্র বলেন, ‘শত্রুরা ইরানে হামলা চালিয়ে ভুল করেছে। এখন তারা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে। যা কখনও হবে না’।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শত্রুদের এই কৌশলগত ভুল তাদের চরম অপমানের মুখে ফেলেছে এবং ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। শত্রুরা ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে অপপ্রচার চালিয়ে এবং নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে এই জাতিকে নতি স্বীকার করাতে চাইছে। কিন্তু ইরান প্রমাণ করেছে যে, ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই তারা শত্রুর সামনে মাথা নত করেনি’।
