গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে এক নারী ও তাঁর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত নারী ৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গঙ্গাচড়া ইউনিয়নে ভুক্তভোগী পরিবারের এক আত্মীয়ের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোছা. তাজমিনা জানান, উত্তর কোলকোন্দ মিয়াজীপাড়া এলাকার তাঁর দুই ভাই মো. ইলিয়াছ হোসেন ও ইউনুচ আলীর সঙ্গে পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাঁকে বাড়িতে ডাকা হয়।

তাজমিনা বলেন, তিনি ছেলে তাজুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে তাঁদের পথরোধ করা হয়। এ সময় তাঁর দুই ভাই, ভাতিজাসহ অন্যান্য আসামিরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর জখম হন এবং তাঁর ছেলের কপালে হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে আজিবর রহমানের কাছ থেকে জোর করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং লিলি মাই নামে এক নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ মার্চ সাক্ষী বাদশা মিয়ার মাধ্যমে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন তাজমিনা।
সংবাদ সম্মেলনে তাজমিনা আরও অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী রিয়াদুন্নবী রিয়াদ ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন। পাশাপাশি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তাজমিনার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর ছেলে রাজু আহমেদ। এ সময় পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা এনে দেওয়ার কথা বলে রিয়াদুন্নবী রিয়াদ তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু কোনো সহায়তা বা টাকা ফেরত দেননি। একইভাবে মরিচা বেগম অভিযোগ করেন, ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো কার্ড বা টাকা ফেরত পাননি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষই মামলা করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”