পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি পুলিশ স্টেশনে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন আরও ১৩ জন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে প্রদেশের বান্নুর জেলার দোমেল পুলিশ স্টেশনে এ হামলা হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে রয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের খবরে বলা হয়, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ স্টেশনের পেছনে ধাক্কার পর এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এর পরপরই শুরু হয় প্রচণ্ড গোলাগুলি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কয়েক মাইল দূর থেকেও এর শব্দ শোনা যায়।

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণে পুলিশ স্টেশনের সেন্ট্রি পোস্টটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভবনের একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বিস্ফোরণে আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; বেশ কিছু বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।-

ডনের খবরে আরও বলা হয়, আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জেলা জরুরি কর্মকর্তা বখতউল্লাহ ওয়াজির জানান, এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত এবং ১৩ আহতকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুরো এলাকা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গোলাগুলি থামার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে পুরোদমে কাজ শুরু করেন।

এদিকে, স্থানীয় মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করে রক্তদান ও সহায়তার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং বাসিন্দারাও সক্রিয়ভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশ থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বান্নু জেলায় বারবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে, যেখানে প্রায়ই বেসামরিক নাগরিক ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী হামলার শিকার হচ্ছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর ‘অ্যানুয়াল সিকিউরিটি রিপোর্ট-২০২৫’ অনুযায়ী, গত বছর এই অঞ্চলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৬২০ থেকে বেড়ে গত বছর ২ হাজার ৩৩১ জনে দাঁড়ায়।