
গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে ইরানি সামরিক বাহিনী দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। প্রথম বিমানটি দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে বিধ্বস্ত হয় এবং পাইলটের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তা করতে প্রশাসন আহ্বান জানিয়েছে।
দ্বিতীয় বিমানটি হরমুজ প্রণালীর কাছে উপসাগরীয় এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ইরানিরা জানিয়েছে, এটি ছিল একটি A-10 Warthog যুদ্ধবিমান। উভয় বিমানের পাইলটদের খোঁজ ও উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান।
ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা নতুন সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক তৎপরতা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনের একটি মাধ্যমও।
ইরানি জনগণের মধ্যে ঘটনার পর উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধ শুরু থেকে প্রতি রাতে রাস্তায় উদযাপন দেখা গেলেও শুক্রবারের উদযাপন ছিল বিশেষভাবে উচ্ছ্বাসপূর্ণ। স্থানীয়রা বলছে, এটি সেনাবাহিনীর সাফল্য এবং সরকারের সমর্থক সাধারণ মানুষ মনোবল অর্জনের একটি প্রতীক।
ইরানি সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমেরিকানরা আমাদের সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করেছে। আজকের ঘটনার মাধ্যমে তাদের বুঝতে হবে যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সক্ষম।”
উভয় বিমান ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ও ড্রোনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, এর মধ্যে কিছু ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং পাইলট উদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ইরান দাবি করছে, এই অভিযান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি লঙ্ঘন করে করা হয়নি, বরং দেশের সীমানা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়েছে।
উভয় দেশের মধ্যে সংঘাত চলমান থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সামরিক ক্রিয়াকলাপ বিশ্ব তেল বাজার, নৌপথ নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
রাজনৈতিক আলোচনা
ইরান সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনৈতিক সংলাপের দরজা খোলা রেখেছে। তবে সেনাবাহিনী বলেছে, “আমাদের সক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তিকে কেউ অবমূল্যায়ন করলে, আমরা আরও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম।”
