
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী রোববারের বৈঠকে জ্বালানি তেলের উত্তোলন আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওপেক প্লাস। জোটের সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে ব্যারেলে প্রায় ১২০ ডলারে। এর আগে গত ১ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটটি দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় বিঘ্ন ঘটায় এখন উত্তোলন আরো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ওপেক প্লাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় উত্তোলনকারী দেশগুলো সংকটে পড়েছে।
এর বাইরে ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলনও ব্যাহত হচ্ছে। জোটের আটটি দেশ মূলত প্রতি মাসের উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রাশিয়া, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও তাদের উত্তোলন বাড়ানোর সক্ষমতা সীমিত।
বাজারের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলই গুরুত্বপূর্ণ। ওপেক প্লাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা অন্তত নথিপত্রে উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে চায়। এতে বাজার এ বার্তা পাবে যে জাহাজ চলাচল শুরু হলেই তারা দ্রুত সরবরাহ বাড়াতে প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পথে জ্বালানি তেল পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরব বর্তমানে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে রফতানি বাড়িয়ে দৈনিক ৪৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে সরবরাহ সচল রেখেছে।
