
মানিকগঞ্জে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেত্রে চার থেকে পাঁচ মন পেঁয়াজ বিক্রি করেই একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি জোগাড় করতে হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, জেলার, শিবালয়, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলায় এ বছর কন্দ (মুড়িকাটা) ও হালি পেঁয়াজের ফলন বেশি হয়েছে। বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের বৈকা, ভাদিয়াখোলা, সরফদিনগর, কৃষ্ণপুর, মাচাইন গ্রাম, ঘিওরের নালী ইউনিয়ন ও শিবালয়ের আরোয়া ও শিমুলিয়া পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে।
কৃষকরা জানান, পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। ঝিটকা আড়তসহ বিভিন্ন আড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হালি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত দাম মিললেও তা উৎপাদন খরচের তুলনায় খুবই কম। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫-৭ টাকা কেজি।
হরিরামপুর উপজেলা বাল্লা ইউনিয়নের বাস্তা এলাকার শাহজাহান নামের এক কৃষক বলেন, ‘অনেক আশা করে পেঁয়াজ চাষ করছি। পেঁয়াজের আয়ে সারা বছর চলি। ৬ মন পেয়াজ নিয়ে আড়তে আসছি। দাম কম।’
কৃষকদের অভিযোগ, পেঁয়াজ তুলতে শ্রমিক সংকটের কারণে বাড়তি মজুরি দিতে হচ্ছে। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ এই টাকা জোগাড় করতে চার থেকে পাঁচ মন পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পারাগ্রাম গ্রামের সত্যান্দ নামের কৃষক বলেন, “চার-পাঁচ মন পেঁয়াজ বিক্রি করে শ্রমিকের টাকা দিতে হয়। আমাদের তো লাভ নাই, শুধু লস। ৭ টাকা করে পেয়াজ বেচছি”।
ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের মাশাইল এলাকার কৃষক লালমিয়া বলেন, ‘দাম কম হতে পারে তাই বলে ৫-৮ টাকা কেজি। কামলা খরচ ৮-৯শ টাকা। কৃষক বাঁচবো কেমনে। দাম বাড়লে কৃষকের জান বাঁচবো।’
কৃষি বিভাগ জানায়, মুড়িকাটা পেঁয়াজে দাম কম হলেও হালি পেঁয়াজে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম শুরুতে ভালো ছিল। বর্তমানে কম হলেও হালি পেঁয়াজে কৃষকরা লাভবান হবেন। আমরা সংরক্ষণের জন্য হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওরে এয়ার ফ্লো মেশিন দিচ্ছি, যাতে তারা পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন।’
