তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পুড়িয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানিরা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন করে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইরানের রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে। এই সাময়িক বিরতি মূলত দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতির আওতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এই চুক্তি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে আদায় করা ফি ইরান দেশের পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকও দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তেজনা কমেনি। ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাদের অভিযোগ, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।