রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘নারী অবস্থান করছেন’ এমন সন্দেহকে কেন্দ্র করে ভোররাতে জোর করে তল্লাশির ঘটনা ঘটেছে।

হল সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে জিয়া হল–এর ১২১ নম্বর কক্ষে হল সংসদের এজিএসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রবেশ করেন। অভিযুক্তরা হলেন—এজিএস মো. ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাকিব জুবায়ের এবং আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হাফিজ। তাঁরা সবাই শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে দাবি করেন যে সেখানে একজন নারী আছেন। তবে তল্লাশি চালিয়ে কোনো নারী পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।

রোববার ভোরে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে ‘নারী অবস্থানের অভিযোগটি ভিত্তিহীন’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এজিএসসহ তিন শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া হল সংসদের ভিপি মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কক্ষের শিক্ষার্থী আলিম মৃধা অভিযোগ করে বলেন, তারা ভোরে দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দাবি করেন সেখানে নারী আছেন এবং ভিডিও ধারণও করা হয়। পরে তল্লাশিতে কিছু না পাওয়ায় তারা ফিরে যান।

আরেক শিক্ষার্থী সন্দীপ কুমার শীল বলেন, তাদের অনুমতি ছাড়াই কক্ষে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হয়, যা হয়রানির শামিল।

অন্যদিকে অভিযুক্ত এজিএস ইসরাফিল হোসাইন দাবি করেন, তারা একটি তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করতে গিয়েছিলেন, তবে সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর কক্ষে তল্লাশি করা যায় না এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।