
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা থামছেই না। সর্বশেষ জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই কৌশলগত জলপথটি এখনও কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি ছাড়াই সাম্প্রতিক আলোচনা শেষ হওয়ার খবরে ওই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শিপ ট্র্যাকিং ফার্ম ‘ভর্টেক্সা’ (Vortexa)-এর বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, গত রোববার দুই দেশের আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়া শেষ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া দুটি খালি ট্যাঙ্কার মাঝপথ থেকেই ঘুরে যায়। ভর্টেক্সা-এর ইউরোপীয় বাজার বিশ্লেষণ শাখার প্রধান পামেলা মুঙ্গার জানান, এর মধ্যে পাকিস্তানের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কার পরবর্তীতে আবার ফিরে আসে এবং বর্তমানে প্রণালীর ঠিক বাইরে অপেক্ষমান রয়েছে।
পামেলা মুঙ্গার বলেন, “জাহাজগুলোর এই গতিবিধি স্পষ্ট করে দেয় যে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরোপুরি ইরানিদের হাতেই রয়েছে।”
এদিকে উত্তজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার তিনি ঘোষণা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে ‘ব্লকেড’ বা অবরোধ সৃষ্টি করবে। এর ফলে কোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশ বা বের হতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথ ব্যবহার করে নিজস্ব তেল রপ্তানি করলেও অন্য অনেক দেশের জাহাজের জন্য এটি বন্ধ বা সীমিত করে রেখেছে।
যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ কোম্পানিগুলোর মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি জাহাজ এই প্রণালী পার হয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানিই এখনও এই পথকে নিরাপদ মনে করছে না।
ভর্টেক্সা-এর তথ্যমতে, গত শনিবার মাত্র একটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (VLCC) খালি অবস্থায় প্রণালী দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার এবং এলপিজি (LPG) বাহী একটি জাহাজ প্রণালী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেছে।
অন্য একটি সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স’ (TankerTrackers) জানিয়েছে, শনিবার তিনটি সুপারট্যাঙ্কারের মাধ্যমে ইরাকের ২০ লাখ ব্যারেল এবং সৌদি আরবের ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বাইরে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ব্লকেডের হুমকি এবং ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
