ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট। ছবি: এক্স

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট। ছবি: এক্স

গতকাল রাতের বেলায় একের পর এক পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটালে মাঝেমধ্যে উল্টোপাল্টা কিছু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তো থাকেই! মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী করেছেন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো তাঁর একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাঁকে যিশু খ্রিস্টের রূপে দেখানো হয়েছে!

এর আগে তিনি পোপকে লক্ষ্য করে কঠোর সমালোচনা করেন।

রাতের বেলায় দেওয়া পোস্টগুলোর একটিতেই পোপ লিও-কে ‘অপরাধের ব্যাপারে নরমসরম’ আর ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। আরও দাবি করেন, ‘আমি যদি হোয়াইট হাউসে না থাকতাম, লিও ভ্যাটিকানে থাকতে পারতেন না।’

একই সময়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক পোস্টে — যার মধ্যে চাঁদে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের হোটেলের মতো বিষয়ও ছিল — তিনি নিজের যিশুরূপী একটি কৃত্রিম ছবি শেয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পোস্টের সঙ্গে কোনো মন্তব্য লেখেননি।

এই পোস্টগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। তাঁর কিছু অনুসারী তাঁকে ওই ছবি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো নিজের এমন ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। গত বছর শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রস্তুতির সময় তিনি ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ চলচ্চিত্রের আলোকে নিজের একটি ব্যঙ্গাত্মক কৃত্রিম ছবি প্রকাশ করেছিলেন।

ক্যাথলিক চার্চের প্রধানকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের এই সমালোচনার পেছনে রয়েছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপের বক্তব্য। গত মাসে দেওয়া এক ভাষণে পোপ বলেন, যারা যুদ্ধ শুরু করে এবং যাদের ‘হাত রক্তে ভরা’, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা গ্রহণ করেন না। ইরানে চলমান সংঘাতকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে পোপ সহিংসতা কমানোর পথ খুঁজে বের করতে আহ্বান জানান ট্রাম্পকে।

রোববার জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন পোপ চাই না, যিনি পারমাণবিক অস্ত্র রাখাকে ঠিক বলবেন। আমরা এমন পোপ চাই না, যিনি বলবেন আমাদের শহরগুলোতে অপরাধ ঠিক আছে। এটা আমার ভালো লাগে না। পোপ লিওর বড় ভক্ত নই আমি।’

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে সেটা গ্রহণযোগ্য, এমনটা কখনোই বলেননি পোপ লিও।

অন্যদিকে, স্কাই নিউজের মার্কিন অংশীদার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোপ লিও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে আমি ভয় পাই না।’ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তাঁর শান্তির আহ্বান আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতিবিদ নই। আমরা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর মতো করে ভাবি না। তবে একজন শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমি যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষায় (গসপেল) বিশ্বাস করি।’

এ ছাড়া আলজিয়ার্সগামী পাপাল ফ্লাইটে রয়টার্সকে পোপ বলেন, ‘আমি তাঁর (ট্রাম্প) সঙ্গে বিতর্কে যেতে চাই না। যিশু খ্রিষ্টের বার্তাকে যেভাবে কিছু মানুষ ব্যবহার করছেন, সেটা ঠিক হচ্ছে না।’