বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য বাসভবনে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে।
এরপর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পুরাতন কলাভবন সংলগ্ন মৃৎ মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বালন ও সমবেত সংগীত ‘এসো হে বৈশাখ’-এর মাধ্যমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলা বিভাগ ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
একই সময়ে চারুকলা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, অফিস, স্কুল-কলেজ এবং ক্যাম্পাসবাসীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি মৃৎ মঞ্চ থেকে শুরু হয়ে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ শোভাবর্ধনকারী তিনটি দলকে পুরস্কৃত করা হবে। র‍্যালি শেষে টিএসসি চত্বরে মেলা উদ্বোধন ও লোকজ আপ্যায়নের আয়োজন থাকবে।
বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর যৌথ উদ্যোগে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে অনুষ্ঠানটি জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজন করা হবে।
 বাংলা বিভাগের কর্মসূচি
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা বিভাগ ১৪ এপ্রিল মহুয়া মঞ্চে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছে। সকাল ৯টায় উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে থাকবে বৈশাখী ফলাহার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, লোকজ ক্রীড়া এবং শিক্ষকদের পরিবেশনা—যা বাংলা সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরবে।
 নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের কর্মসূচি
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ দুই দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন হাতে নিয়েছে। ১৩ এপ্রিল বিকাল ৪টা থেকে মৃৎ মঞ্চে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকের বাদন, সংগীত, পুতুলনাট্য, নৃত্য ও ঐতিহ্যবাহী নাট্য পরিবেশনা থাকবে।পরদিন ১৪ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা শেষে একই স্থানে বিভাগটির উদ্যোগে আরেকটি সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
 জাকসুর কর্মসূচি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নববর্ষ উপলক্ষে নানা লোকজ ও বিনোদনমূলক আয়োজন করেছে। ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ভেলাবাইচ ও কলাগাছে আরোহন প্রতিযোগিতা।১৪ এপ্রিল থাকবে হালখাতা ও মিষ্টিমুখের আয়োজন। এছাড়া সন্ধ্যায় জাকসুর উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যা দিনব্যাপী উদযাপনের সমাপ্তিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে।
এ বছরের নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”। শোভাযাত্রায় একটি নির্ধারিত ব্যানার বহন করা হবে; তবে কুলা, ডালা বা প্ল্যাকার্ডে প্রতিপাদ্য লেখা যাবে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে মুখোশ পরা ও রং ছিটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে; এ নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত রুটে বাসের ব্যবস্থা থাকবে। সকল অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসবাসীকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে