মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৌ অবরোধ পরিকল্পনার ঘোষণার পর আবারও থমকে গেছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল। সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমিতভাবে চলমান জাহাজ চলাচলও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। আর এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে চলমান জাহাজ চলাচল মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবরোধ পরিকল্পনার ঘোষণার পর ‘তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে’ বলে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে। এমনকি কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে বলেও জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, অবরোধের ঘোষণা দেয়ার আগে রোববার পর্যন্ত প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কম মাত্রায় হলেও অব্যাহত ছিল। তাদের মতে, ‘শনিবার কিছুটা জাহাজ চলাচল বেড়েছিল, কারণ শিপিং কোম্পানিগুলো সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঝুঁকি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য উপসাগর থেকে কিছু জাহাজ বের করে আনতে চাইছিল।

তবে ট্রাম্পের নৌ অবরোধের ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। লয়েডস লিস্ট বলছে, ‘এখন মনে হচ্ছে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্তত দুটি জাহাজ, যেগুলো প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে ছিল, সেগুলো ফিরে গেছে।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার বলেন, নৌ অবরোধ যুদ্ধের একটি বৈধ কৌশল হতে পারে, তবে তা কিছু নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রথমত, এটি কোনও নিরপেক্ষ দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা যাবে না, কারণ এতে পারস্য উপসাগরের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, খাদ্য সরবরাহ চালু রাখতে হবে এবং বেসামরিক জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা যাবে না। তাদের অনাহারে ফেলা যাবে না। তৃতীয়ত, এটি অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তাই আপনি দেখবেন, সেন্টকম যখন অবরোধের কথা বলেছে, তখন তারা বলেছে— ইরানে যাওয়া বা আসা যেকোনও দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈধ হতে হলে অবরোধটি নিরপেক্ষ হতে হবে।’

সাবেক নৌ কর্মকর্তা পার্কার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা সব দেশের জাহাজকে ‘আটক’ করার চেষ্টা করবে, যাতে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে চীনের ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, আর এই অবরোধের লক্ষ্য হতে পারে সেই ধরনের পদক্ষেপ ঠেকানো।

পার্কার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ হাতে পাওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে।’