প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হলেন ডলি বেগম

কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক হিসেবে জয়ী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ডলি বেগম।

দেশটির সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ে ডলি বেগম তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডায়ানা ফিলিপোভাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। এর আগে তিনি একই এলাকা থেকে অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিপি) এবং প্রাদেশিক এনডিপি দলের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ডলি বেগম ২০ হাজার ১১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ প্রার্থী পেয়েছেন ৫ হাজার ৩০০ ভোট।

এ জয়ের ফলে সরকারে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা গঠনের জন্য লিবারেলদের প্রয়োজন ছিল ১৭২টি আসন।

সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র দুই মাস আগেও ডলি বেগম এনডিপি দলের সদস্য হিসেবে স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রতিনিধিত্বকারী প্রাদেশিক রাজনীতিক ছিলেন। ২০১৮ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার সময় তার বয়স ছিল ২৯ বছর এবং তিনি দলের ককাসে সর্বকনিষ্ঠ নিউ ডেমোক্র্যাট ছিলেন। পরে তাকে দলের উপনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়।

জয়ের পর কিংস্টন রোডের একটি ভোজসভায় মঞ্চে উঠে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা অসাধারণ উদযাপন করছি। একটি সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে তাদের ভিন্নতা ভুলে আশা, সহমর্মিতা ও অগ্রগতিকে বেছে নিয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত জনতা ‘ডলি, ডলি, ডলি’ বলে স্লোগান দেন।

এদিকে জয়ের পর ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘ডলি বেগমের এই বিজয় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’ তিনি উল্লেখ করেন, ডলি বেগম তার কমিউনিটির উন্নয়নে দৃঢ়ভাবে এবং কার্যকরভাবে লড়াই করে আসছেন।

কার্নি আরও বলেন, ‘ডলি বেগমের অক্লান্ত কণ্ঠস্বর, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও আরও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উল্লেখ্য, ডলি বেগম ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে মা–বাবার সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। তার বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা টরন্টোর স্কারবোরো এলাকায়। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দীর্ঘ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন