ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে দক্ষিণ লেবাননে এলিট যোদ্ধা মোতায়েন করেছে হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর সীমান্তবর্তী যেসব এলাকা ছেড়ে গিয়েছিল যোদ্ধারা, তারা নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর সেখানে ফিরেছে।

সূত্রগুলো জানায়, হিজবুল্লাহর এলিট ইউনিট রাদওয়ান ফোর্সের সদস্যদের যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলি ট্যাংকের অগ্রগতি ঠেকানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১৯৮২ সালে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন হিজবুল্লাহ গত সোমবার (২ মার্চ) ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। সংগঠনটি জানায়, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খেমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই তারা গোলাবর্ষণ শুরু করে।

এরপর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননসহ বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। সীমান্ত অতিক্রম করে আরও সেনা পাঠানোর পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা থেকে লেবাননের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে ইসরায়েল। ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর থেকেই ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছিল। তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল তারা।

গত বুধবার (৪ মার্চ) টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম বলেন, ইসরায়েলের ‘দখল ও সম্প্রসারণ’ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তার সংগঠন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। তারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে। জবাবে ইসরায়েলের ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে ইরান।