আকাশপথে নির্বিচারে বিমান হামলার মাধ্যমে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করলেও, স্থলপথে মুখোমুখি যুদ্ধে আবারও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। লেবানন ও ইরানের অভ্যন্তরে পৃথক দুটি অভিযানে গিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি কমান্ডোদের পরাজয়
পূর্ব লেবাননের বেক্কা ও নবিশিদ অঞ্চলে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোরে অন্তত ১৫টি সামরিক হেলিকপ্টার নিয়ে ইসরায়েলের একটি বিশেষ ইউনিট লেবানন সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করে।

প্রতিরোধ যোদ্ধারা সময়মতো এই অনুপ্রবেশ শনাক্ত করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে সেখানে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এই লড়াইয়ে দুজন দখলদার সেনা নিহত এবং একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটিতে মার্কিন ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর আদলে গঠিত ইসরায়েলের কোনো এলিট কমান্ডো ইউনিট ছিল, যারা দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছিল।

ইরানে মার্কিন সেনা আটকের চাঞ্চল্যকর দাবি
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরে অভিযান চালাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আমেরিকান সেনা আটক হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানী। তিনি জানান, ওয়াশিংটন এই লজ্জাজনক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সত্য বেশিদিন গোপন রাখা সম্ভব হবে না।

যদিও পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে এনবিসি নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সীমিত স্থল অভিযান’ নিয়ে রিপাবলিকান মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। মূলত ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের ছক আঁকছে হোয়াইট হাউস।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে মাঠপর্যায়ে একের পর এক ক্ষয়ক্ষতি ও সেনা আটকের ঘটনা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের কৌশলকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।