মার্কিন শীর্ষ জেনারেলের স্বীকারোক্তি

হরমুজ খুব জটিল। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান হামলার ১৪ দিনের মাথায় নিজেই এ কথা বললেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেগুলোকে সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। ড্যান বলেন, ‘এটি কৌশলগতভাবে জটিল একটি পরিবেশ। এর আগে আমরা বড় পরিসরে কোনো জাহাজকে সেখানে নিয়ে যেতে চাইলে আমাদের বর্তমান সামরিক লক্ষ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চাই।’ এপি।
এর আগে বুধবার দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এখনই ‘প্রস্তুত নয়’। কারণ, তাদের সব সামরিক সম্পদ এখন ইরানে হামলার দিকে কেন্দ্রীভূত। প্রায় একই মন্তব্য অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টেরও। বৃহস্পতিবার স্কাই নিউজকে বলেন, ‘সামরিকভাবে সম্ভব হলেই’ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করবে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় শুরু থেকেই ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বা একটি আন্তর্জাতিক জোট তেলবাহী ট্যাংকারকে প্রণালি পার হতে নিরাপত্তা দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সামরিকভাবে সম্ভব হলেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তত একটি আন্তর্জাতিক জোটকে সঙ্গে নিয়ে জাহাজগুলোকে প্রণালি পার হতে নিরাপত্তা দেবে।’ বেসেন্টের এই মন্তব্য এসেছে এমন একসময়, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে আছে। অন্যদিকে বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস বড় তেল কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের উচিত সংকীর্ণ এই প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার পাঠানো। উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পরই হরমুজ প্রাণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই অবরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।
এদিকে ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে। একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও নতুন হামলার মধ্যে কিছু এলাকায় জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। এরই মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাজধানী রিয়াদসহ মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে আরও আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরাকে একটি জ্বালানি বহনকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন ক্রুর মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলেছেন পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথও। ইরান যদি প্রণালিটি অবরোধ করে, সে পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসন পর্যাপ্ত পরিকল্পনা করেছে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ বলেন, হ্যাঁ, পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চাই এবং কীভাবে তা অর্জন করব সেগুলো এখন ধীরে ধীরে নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে আনছি।’
