কুমিল্লার দেবিদ্বারে কুকুরকে লাথি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় জুলুস মিয়া নামের এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত জুলুস মিয়া (৫৫) ওই গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫) একটি কুকুরকে লাথি দিলে এর প্রতিবাদ করেন কৃষক জুলুস মিয়া। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জুলুস মিয়ার অণ্ডকোষে কামাল লাথি মারলে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জুলুস মিয়ার নাতি মো. আকাশ বলেন, আমি বাড়ির পাশে একটি মাচায় বসেছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি আমার দাদা মাটিতে পড়ে আছেন, আর বাকিরা দৌঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় আনোয়ার নামে একজন দা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। পরে স্থানীয়রা দাদাকে হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল থেকে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

জুলুস মিয়ার ভাতিজা মো. রোমান বলেন, আমার চাচার ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। তিনি কৃষিকাজ করে পরিবার চালাতেন। এখন এই দরিদ্র পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে বুঝতে পারছি না।

জুলুস মিয়ার বড় ছেলে ইব্রাহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবাকে যারা এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।