
ইসরায়েল ও লেবানন-এর মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন-এ বৈঠকে বসছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফোনালাপ হয়েছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর সময় নির্ধারণ। লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।
গত মার্চের শুরুতে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ১,৯০০ ছাড়িয়েছে। এতে বেসামরিক নাগরিক, শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক দিনে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এই সংঘাতের পটভূমিতে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা। ওই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর পরদিন, ২ মার্চ, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক রকেট হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।
প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুরু থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলও আলোচনায় সম্মত হয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সরাসরি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শান্তি আলোচনা করতে আগ্রহী। অন্যদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে ১৯৮৩ সালের পর ইসরায়েল-লেবানন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির আগে হামলা বন্ধ এবং হিজবুল্লাহ ইস্যুতে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এদিকে ইসলামাবাদ-এ চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে, যা সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
