মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত দাবি ও উচ্চাকাঙক্ষার কারণে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম-এর এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
ইসলামাবাদে প্রেরিত তাসনিমের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানানো হয়, প্রায় ২১ ঘণ্টার নিবিড় এই কূটনৈতিক ম্যারাথনে ইরানি প্রতিনিধিদল তাদের জাতির অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাকচি এবং আলী বাকেরি। তারা বিশেষজ্ঞ কমিটিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি সংরক্ষণের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়াবাড়ি রকমের দাবিগুলো প্রতিরোধ করেন।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সামরিক যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যেসব লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, আলোচনা কক্ষে তারা সেগুলোই আদায় করতে চেয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান থেকে পারমাণবিক উপকরণ অপসারণের দাবি। তবে ইরানি প্রতিনিধিদল দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
তাসনিম আরও জানায়, ইরানি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়ে একটি অভিন্ন কাঠামোতে পৌঁছানোর জন্য মার্কিন পক্ষকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অতিরিক্ত দাবির প্রতি আমেরিকানদের লোভ তাদেরকে যুক্তিবাদ ও বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলেই আলোচনা কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
