নির্বাচন কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় কমিশনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী ফলাফল ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।
লাইভ বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রান্ত হয়েছে। সেদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে তারা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মোট ২৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। আলহামদুলিল্লাহ, দেশের জনগণ ও ভোটাররা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া দিয়েছেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিল ঢাকা-১৩।
এই আসনটি দেশ, জাতি ও ইসলামপ্রিয় জনগণের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছিল। সারাদিন ভোটগ্রহণ চলার পর গভীর রাতে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা একটি নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করেছি। তা হলো—বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো নির্বাচন হারলেই ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পথে না যাওয়া।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা যা আমাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের কিছু ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে বলে দাবি করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এবং জনগণের ভোটাধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে এসব বিষয় আর উপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। জনগণ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, আবেগ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের আশায় ভোট দিয়েছে। কিন্তু বহু জায়গায় সেই আবেগের প্রতি চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে।
তিনি জানান, এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি গত রাতেই নির্বাচন কমিশনে গেছেন এবং ঢাকা-১৩ আসনসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে কমিশনের সচিবের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার এখতিয়ারভুক্ত নয়। ফলে এখন কেউই দায় নিতে চাচ্ছে না—না নির্বাচন কমিশন, না রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠে, জনগণের ভোটাধিকার কোথায় দাঁড়াল—এমন মন্তব্য করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এত আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগের পর যদি এভাবে ভোট নিয়ে তামাশা করা হয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, হাজারো মানুষের চোখের অশ্রু এবং অসংখ্য মানুষের হৃদয়ভাঙা কান্না তাদেরকে আরও পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে। এ বিষয়ে কী কী করণীয় রয়েছে, তা নিয়ে তাদের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে কাজ করছেন।
মামুনুল হক জানান, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন—একই দেশে, একই শহরে দুই ধরনের আইন চলতে পারে না। ঢাকা-৮ আসনে যে ভিত্তিতে কিছু ব্যালট বৈধ ঘোষণা করা হবে, সেই একই ভিত্তিতে ঢাকা-১৩ আসনে ব্যালট অবৈধ ঘোষণা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।
তিনি বলেন, তারা এখন মাঠপর্যায়ের সব তথ্য সংগ্রহ করছেন। এতে কিছুটা সময় লাগছে, কারণ নির্বাচন শেষে সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। তবে প্রমাণসহ তাদের দাবিগুলো উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরপর আইনগতসহ সব ধরনের করণীয় গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা-১৩ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, এই বিষয়টি তারা কোনোভাবেই ছেড়ে দিতে পারেন না। এটি শুধু একটি আসনের বিষয় নয়, বরং দেশ, জাতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রশ্ন। ফলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পদক্ষেপ নিতে তারা বাধ্য হবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় কমিশনকেই নিতে হবে। তিনি তার কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত থাকবেন এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবেন না।
