আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, এবার লক্কড়-ঝক্কড় কোনো বাস রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না এবং গত দুই ঈদের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা আরও বেশি স্বস্তিদায়ক হবে।

ডিএমপি কমিশনার মো. সারওয়ার জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনে পুলিশের পাশাপাশি এবার ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিমের বিশেষ নজরদারি থাকবে। যানজট নিরসনে প্রয়োজনে রাস্তার গতিপথ পরিবর্তন বা একমুখী করে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া একজন চালক টানা ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বাস চালাতে পারবেন না এবং রাস্তার যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা যাবে না বলে কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, দেশের সড়ক পরিবহনের সব ধরনের অনিয়ম বন্ধে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত দুই ঈদের চেয়েও ভালো ঈদযাত্রার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবারের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে মোট ৬টি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় শ্রমিক ও মালিক নেতারা ঈদযাত্রায় যানজট এবং জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে তাদের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তেল সংকটের কারণে যেন ঈদযাত্রা ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রতিটি বাসের বিপরীতে অন্তত ১০০ লিটার করে তেল নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বাস টার্মিনালগুলোতে হেল্প ডেস্ক থাকবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় ব্যাপক সংখ্যক পোশাকধারী ও ট্রাফি পুলিশ মোতায়েন থাকবে।