
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটিতে আলোচনা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।
বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কমিটি ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও তা শেষমেশ ঘটেনি। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিজয়ের পর থেকেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতাদের তৎপরতাও বেড়েছে। ফলস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শোডাউন, ইফতার মাহফিল এবং দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম।
ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ঢাবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ছাত্রনেতা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্র রাজনীতিতে গঠনমূলক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি কার্যকর ডাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবি জানান। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ডাকসু ও হল সংসদের জন্য যুগোপযোগী সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়ন করে শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি বিস্তারিত গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়
শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় তিনি সর্বদাই একজন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। তারই সহযোদ্ধা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে তার নেতৃত্বে সংগঠিত আন্দোলন দেশের ছাত্রসমাজকে উদ্বেলিত করেছে।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে তিনি বিভিন্ন সময় কার্যকর ডাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সাংগঠনিক রাজনীতির পাশাপাশি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলো বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতেও তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমসহ বেশ কিছু মানবিক উদ্যোগেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে আদর্শিক জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল একটি সচেতন, সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল ছাত্রসংগঠনে ক্রমেই রূপান্তর লাভ করেছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ও ক্যাম্পাসকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে ছাত্রদলের রাজনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে সাংগঠনিক সুত্রে জানা যায়।
শিক্ষার্থীবান্ধব ও সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে বলে সংগঠনটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি কবে ঘোষণা করা হবে —এ বিষয়ে দলটির হাই কমান্ড থেকে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।
