বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখে পড়েছে। ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমোদন দিলেও, বাস্তবে সেই তালিকার পাঁচটি চালান আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের বড় প্রশাসনিক ভুল। তেহরানে পাঠানো তালিকাটি ছিল যুদ্ধের আগের পরিকল্পনা ও নথির ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহকারীদের ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

ফলে তালিকাভুক্ত এলএনজি কার্গোগুলোর অধিকাংশই এখন আর অস্তিত্বই নেই। কাতারএনার্জি যুদ্ধের শুরুতেই সরবরাহ স্থগিত করে ঘোষণা দেয়, যা পরবর্তীতে মে মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অথচ সেই বাতিল হওয়া চালানগুলোকেই অনুমোদনের জন্য ইরানে পাঠানো হয়েছিল, যা পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারাও বিস্ময়ের সঙ্গে স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষায়, এসব জাহাজ এখন কার্যত “অস্তিত্বহীন”।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প পথ বেছে নিতে হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য নয়টি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করা হলেও, এর মধ্যে আটটিই উচ্চমূল্যের স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ভর্তুকির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।সরকারের ভর্তুকি (subsidy) ব্যয় বেড়ে গেছে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনলেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম পুরোপুরি বাড়ানো সম্ভব হয় না, তাই সরকারকে পার্থক্যটা ভর্তুকি দিয়ে সামাল দিতে হচ্ছে। সময়ানুযায়ী যদি এই বাতিল হওয়া চালানগুলো বাস্তবে পাওয়া যেত, তাহলে এত বেশি দামে জরুরি কেনাকাটার প্রয়োজন পড়ত না। এবং জ্বালানী সংকটও এত তীব্র হতোনা।