
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে এমন উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে যা আগে কখনও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আইআরজিসির এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, চলমান সংঘাতে ইরান ‘দীর্ঘ যুদ্ধের’ জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে নতুন উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে।
আইআরজিসির মুখপাত্র মেজর জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পরবর্তী ধাপের সামরিক অভিযানে ইরানের শত্রুরা আরও তীব্র হামলার মুখে পড়তে পারে’।
তিনি বলেন, ‘ইরান নতুন অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব প্রযুক্তি এখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়নি।’
নাঈনি আরও দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা দিয়ে শুরু হওয়া ১২ দিনের সংঘাতের সময়ের তুলনায় এখন ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি বর্তমান সংঘাতকে “পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ” বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে, গতকাল প্রথমবারের মতো ক্লাস্টার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ইরান। তারপরই এমন বিবৃতি এলো তেহরানের পক্ষ থেকে।
ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলতে এমন একটি ব্যালিস্টিক মিসাইলকে বোঝায় যার ভেতরে একটি বড় ওয়ারহেডের বদলে অনেক ছোট ছোট বোমা থাকে। লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছালে মিসাইলটি আকাশে ফেটে গিয়ে সেই ছোট বোমাগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেয়।
কেন ক্লাস্টার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়?
বড় এলাকায় আঘাত করার জন্য। সৈন্য সমাবেশ, এয়ারবেস বা যানবাহনের কনভয় ধ্বংস করতে। রানওয়ে বা সামরিক ঘাঁটি অচল করতে।
তবে ক্লাস্টার অস্ত্র নিয়ে বড় বিতর্ক আছে কারণ অনেক ছোট বোমা বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে থেকে যায়। পরে সেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক মাইন হয়ে থাকে। এই কারণে অনেক দেশ কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস নামক আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে এই অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছে। যদিও সব দেশ এতে সই করেনি।
