জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এক জানাজায় অংশগ্রহণের সময় পেছন থেকে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে সম্বোধন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন পর্বে দাঁড়িয়ে তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বর্ণনা দেন এবং এর প্রতিকার দাবি করেন।

সংসদ ভবনের মতো একটি স্পর্শকাতর ও সুরক্ষিত এলাকায় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংসদ হানজালা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সম্ভবত তাঁর ধর্মীয় পোশাক এবং মাথায় পরিহিত সুন্নতি পাগড়ির কারণেই তাঁকে এমন কুরুচিপূর্ণ বিশেষণের শিকার হতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং পুরো সংসদীয় ব্যবস্থার মর্যাদার ওপর একটি আঘাত।

এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সংসদীয় এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে যাচাই করার জন্য তিনি স্পিকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। সাংসদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে একটি নোটিশ প্রদানের পরামর্শ দেন।

স্পিকার জানান যে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নোটিশ দাখিল করা হলে সংসদ সচিবালয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনার তদন্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

একই অধিবেশনে মহিলা সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁসহ অন্যান্য নারী সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কুৎসিত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। নারী প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিকার চেয়ে তিনি স্পিকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে এমন মন্তব্য সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ বলে সাধারণ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।