বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘিরে সংগঠনজুড়ে তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা, সমর্থন এবং মূল্যায়নের নানা সমীকরণ। মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও তাকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

যশোর অঞ্চলে জন্ম নেওয়া তরিকুল ইসলাম তারিকের বেড়ে ওঠা সাধারণ পারিবারিক পরিবেশে। শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ধাপ শেষ করে তিনি ভর্তি হন যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি জমান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন। একাডেমিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় উপস্থিতি রেখেছেন তিনি।

তরিকুল ইসলাম তারিকের রাজনৈতিক যাত্রা মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হল রাজনীতিতে নেতৃত্বের সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে দ্রুত আলোচনায় নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে এসব যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এসে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কর্মী সমন্বয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

রাজনীতির মাঠে তরিকুল ইসলাম তারিককে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এনেছে তার আন্দোলন-সংগ্রামে সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন।

এ সময় একাধিকবার গুলিবিদ্ধ ও আহত হওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। তার অনুসারীদের মতে, এসব অভিজ্ঞতা তাকে ত্যাগী, ঝুঁকি নিতে সক্ষম এবং মাঠকেন্দ্রিক নেতাদের কাতারে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নিজের অবস্থানও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন তরিকুল ইসলাম তারিক। এক খোলা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জিয়া পরিবারের প্রতি তার কমিটমেন্টে কখনো কোনো ঘাটতি ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বার্থ বা প্রাপ্তির জন্য নয়, বরং আদর্শের জায়গা থেকে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

এছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকা, ত্যাগ, ধৈর্য এবং সংগ্রামের বিষয়ও তিনি তুলে ধরেছেন। এসব বক্তব্যে নিজেকে একজন আদর্শনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস স্পষ্ট।

রাজনীতির বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় তরিকুল ইসলাম তারিকের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। শৈশব থেকেই সমাজসেবার প্রতি আগ্রহী এই তরুণ নেতা ইতোমধ্যে ৪৪ বার রক্তদান করেছেন, যা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তার উদ্যোগে নিজ গ্রামের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ বিষয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা, মতবিনিময় এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়।

এছাড়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর নজিরও রয়েছে তার। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তি ব্যয়ও বহন করেছেন বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের মার্চে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার পর একই বছরের জুনে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সামনে আসা নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম, যার মধ্যে তরিকুল ইসলাম তারিক অন্যতম।

আসন্ন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি কতটা এগিয়ে থাকবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।

সব মিলিয়ে তরিকুল ইসলাম তারিক একদিকে ছাত্ররাজনীতির সক্রিয় কর্মী, অন্যদিকে মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন তরুণ নেতা। ত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শ এবং সংগঠনের প্রতি আনুগত্য—এই বৈশিষ্ট্যগুলোই তাকে নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় আলাদা করে তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

facebook sharing button
whatsapp sharing button
linkedin sharing button